সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

রিপোর্ট-মেজবাহউদ্দিন মাননুঃ
দেশের বিস্ময়কর উন্নয়নের জনপদ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পর্যটন শহর কলাপাড়া পৌরসভার সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে ননস্টপ প্রচার চালাচ্ছেন সকল প্রার্থী। আগামি ১৪ ফেব্রুয়ারি এ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে এ নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন চারজন। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের বর্তমান মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সাবেক মেয়র হাজী হুমায়ুন সিকদার, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) জগ প্রতীকের দিদার উদ্দিন আহমেদ মাসুম ব্যাপারী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মোঃ সেলিম মিয়া। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে একজন নারীসহ ৩৭ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ১০জন প্রার্থী। ইতোমধ্যে গোটা শহরটি পোস্টারে ঢেকে গেছে। বিকেল দুইটা থেকে রাত আট টা পর্যন্ত চলে বিরামহীন (যন্ত্রনাদায়ক) উচ্চ স্বরের মাইকিং। শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে পৌরবাসী কাঙ্খিত মেয়র এবং কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে গুনছেন অপেক্ষার প্রহর। পৌন চার বর্গকিলোমিটার শহরটি এখন পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন একাধিক উঠান বৈঠক করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীনত মেয়র প্রার্থী বিপুল চন্দ্র হাওলাদার। নিত্যকার উঠান বৈঠকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মাহবুবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব তালুকদার, অধ্যক্ষ সৈয়দ নাসির উদ্দিন, মহিলা আওয়ামী লীগের আহŸায়ক অধ্যক্ষ ফাতেমা আক্তার রেখাসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখছেন। ভোট প্রার্থনা করছেন। এছাড়া চলছে ডোর-টু-ডোর ক্যাম্পেইন। জাতীয়, স্থানীয় উন্নয়নকে জোর দিয়ে চলমান উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়া ছাড়াও বাকি সকল উন্নয়ন করার প্রধান প্রতিশ্রæতি দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন নৌকার প্রার্থী। বিএনপির হাজী হুমায়ুন কবির প্রথম দিকে পিছিয়ে থাকলেও এখন কোমর বেধে উঠান বৈঠকে নেমেছেন। চলছে তারও একাধিক টিমের ডোর-টু-ডোর ক্যাম্পিং। বিদ্রোহী প্রার্থী দিদার উদ্দিন উঠান বৈঠক না করলেও ব্যক্তিগত প্রচার চালাচ্ছেন দ্বারে দ্বারে। তার এক সমর্থককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তার অভিযোগ তাকে প্রচার কাজে বাধা দেয়া হচ্ছে। পোস্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত নির্বাচন কর্মকর্তা সহকারী রিটার্ণিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা জানালেন। নির্বাচন কর্মকর্তা তৎক্ষণাৎ কলাপাড়া থানার ওসিকে তদন্ত স্বাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। যদিও বিদ্রোহী দিদার উদ্দিন আহমেদ মাসুম ব্যাপরীকে মাইকিং করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দল থেকে বহিষ্কার করেছে। প্রচারে পিছিয়ে নেই ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী সেলিম মিয়া। এছাড়াও পুরুষ এবং মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারে সরগরম হয়ে আছে পর্যটন শহর কলাপাড়া। উপজেলার পায়রা বন্দর ঘেঁষা এ পৌরসভা এখন নির্বাচনি প্রচারে মুখরিত রয়েছে।
১২ হাজার ৮৯১ জন ভোটার অধ্যুষিত প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভার নাগরিকরা চেয়ে আছেন কে হবেন আগামির মেয়র। যদিও প্রচার-প্রচারনায় নৌকা প্রতীকের বিপুল চন্দ্র এককভাবে এগিয়ে রয়েছেন। কিন্তু ভোটের হিসেব বড়ই জটিল রয়েছে। লড়াইটা কখনও ত্রিমুখি হওয়ার কথা ভাবছেন ভোটাররা; আবার দ্বিমুখি লড়াইয়ের আভাসও দিচ্ছেন। কিন্তু কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। এই প্রথম ইভিএমএ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ পৌরসভার ভোট। নৌকা, ধানের শীষ এবং জগ প্রতীকের তিন প্রার্থীই বিজয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত বলে দাবি করছেন। ১৯৯৭ সালের পহেলা মার্চ গঠিত কলাপাড়া পৌরসভায় রয়েছে ২৯ টি মহল্লা। কাগজে-কলমে জনসংখ্যা প্রায় কুড়ি হাজার। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৩৫ হাজার। ২০১৫ সালে এ পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং স্বতন্ত্র বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীরা প্রত্যেকেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী রয়েছেন। নৌকা প্রতীকের বিপুল হাওলাদার জানান, পায়রা বন্দর ঘেঁষা এ পৌরসভার উন্নয়নে সরকারের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভোটাররা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নৌকাকে বেছে নিবেন। তিনি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে আগামি ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোটের মধ্য দিয়ে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্ণিং অফিসার মোঃ আব্দুর রশীদ জানান, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply